দুর্বিষহ কোয়ারেন্টাইন

কি এক আশ্চর্য পরিবর্তনের মাধ্যমে মােড় নিল এই পৃথিবী, এই ধরণী মায়ের গতি। চেনা-অচেনা সবকিছুরই এক অজানা রূপ দেখিয়ে দিল ২০২০। স্থিতি অস্থিতি সুস্থিতি ইত্যাদি কত রকমেরই বৈজ্ঞানিক শব্দের ব্যবহার দেখিয়ে দিল ২০২০ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। কোভিড-১৯ এসে বিচ্যুত করে দিল সমগ্র পৃথিবীর স্বাভাবিক ভারসাম্য, থমকে দিল প্রকৃতিকে, নষ্ট করে দিল জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কোয়ারেন্টিন, আইসােলেশন নামে আরাে কত নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হলাম আমরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হলাে যে “ঘরে থাকুন, সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে থাকুন।” সেল্ফ। কোয়ারেন্টিন বা প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রেই মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারী মােকাবেলায় মানুষ ঘরে অবস্থান করছেন। তবে যারা নিয়মিত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, ভ্রমণপিপাসু তাদের ক্ষেত্রে লকডাউনটা খুব কঠিন সময়। বিশেষ করে শিশু – বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এক জায়গায় থাকতে থাকতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাবে কোরেন্টিনে থাকা ব্যক্তির […]

Survival in Time of Corona: Experience of A Bangladeshi Student in the UK

My story starts in early March of 2020. We were on the verge of ending our second semester. The whispering of the corona pandemic was spreading across the University campus from late February. And then the fear came true. A notice of lockdown was implemented in Glasgow in late March. I was living in one of the private students’ accommodation. Flights cancelled, groceries emptied due to panic of people, and I got stuck in my studio apartment with the fear of awaiting danger. The situation seemed worse when I could not manage to find out rice packets in all the leading grocery stores, and to be frank; I was in doubt whether I would be able to survive alone or not. It was indeed an unexpected situation for me and fellow students. We were trying to cope with the ‘new normal,’ but life was not the same. We could not[…..]

বেঁচে থাকার জন্যে দরকার ভালো থাকা, আর ভালো থাকার জন্যে দরকার ইতিবাচক মনোভাব

সারাদিন রোজা থেকে সন্ধ্যায় ইফতারির সময় পেঁয়াজু আর বেগুনী আমার চাই-ই চাই। গতবছর রমজানে ঢাকায় ছিলাম, আর পরীক্ষার ব্যাস্ততায় এটা সেটা পছন্দের খাবার খেতে পারিনি। এবার তো বাসাতেই ছিলাম। কিন্তু এবারেও বিধি বাম! বাজারে লকডাউন চলছে। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতেই, ইউটিউব দেখে গ্যাসের চুলায় বানিয়ে ফেললাম পেঁয়াজু আর বেগুনী। সম্প্রতি করোনা প্যানাডেমিক দেশে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করেছে যে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজার- লাখো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, নানান চেষ্টা সত্ত্বেও কত প্রিয়জন হারিয়ে যাচ্ছে! চারদেয়ালের ভেতর নিজেদের সময়টা এমন হয়ে উঠছে যে স্নায়ুর উপর প্রচন্ড চাপ পড়ছে, তাছাড়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তো আছেই। আমার অনেকবার মনে হয়েছে আমি আমার ডিপ্রেশনের চুড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছি, আর পারছি না! সেদিন “ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ” এর করা একটা জরিপে দেখলাম, ২০১৯ সালে মানুষের বিষণ্ণতাজনিত সমস্যার হার ছিলো শতকরা ৬দশমিক ৭ভাগ, যা এইবছর বেড়ে হয়েছে শতকরা ৩২দশমিক ২ভাগ, আর উৎকন্ঠাজনিত সমস্যা শতকরা ৪দশমিক ৫ভাগ থেকে বেড়ে শতকরা ৪৭দশমিক[…..]

মহামারীতে বিষন্নতা নয় নিজেকে সময় দিন, প্রাণোচ্ছল থাকুন

আত্মহত্যা, বিষন্নতা নিয়ে কথা বললে সবাই বলে, “মনে ঈমান নাই তাই এসব বলে।” “এত ভালো রেজাল্ট,তোমার আবার কিসের ডিপ্রেশন” “চেষ্টা না করলে তো হেরে যাবাই, এখানে মন খারাপের কি আছে” “কত মানুষ মারা যাচ্ছে, সেদিকে খেয়াল নেই আবার মনের দিকে নজর!” ফেসবুক ফ্রেন্ড দের নানা ক্রিয়েটিভিটি,রাতের বেলা হাহাকার যেন হুহু করে উঠে মনের মাঝে।   শত ব্যাস্ততার মাঝে থেকে হঠাৎ দীর্ঘ ছুটি,তার উপর মৃত্যুর ঢল, আমরা দিন দিন নিমজ্জিত হচ্ছি অন্ধকারে। এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য নিজেকে সময় দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যে যার স্রষ্টার ইবাদতে নিজেদের নিমজ্জিত রাখার সাথে সাথে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হবে।নিজের সমস্যা গুলো আয়নার সামনে বসে বলতে হবে, একা একা,কান্না আসলে কাঁদতে হবে,যেসব কটু কথা মনকে বিষিয়ে তোলে সেগুলো একটি কাগজে লিখুন,তারপর ছিড়ে ফেলবেন,দেখবেন ভালো লাগবে।   ঘরে বসে আলসেমির জন্য শরীর চর্চা করা হয়ে ওঠেনা।তাই মনের মাঝে আগাছাও পরিষ্কার করা হয়না।করোনায় প্রতিদিনই আমাদের ঘর পরিস্কার করতে হয়,জীবাণুমুক্ত করতে হয়।ক্লিনিং[…..]

করোনাকালে আমি (মার্চ-সেপ্টেম্বর)

  কোভিড -১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ লকডাউনে ঘরে বন্দি হয়ে পড়েছে।আমিও তার ব্যতিক্রম নই।সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মাত্র ২মাস ক্লাস করি।তারপরেই করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয় ১০দিনের জন্য।১৭ই মার্চ চলে আসি বাড়িতে।দিন যত যায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি তত অস্বাভাবিক হতে থাকে,ছুটিও বাড়তে থাকে মাসের পর মাস।দেশব্যাপী করোনা আক্রান্তের হার,মৃত্যু..বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশের পরিচিতজনের করোনায় আক্রান্তের,মৃত্যুর খবর শুনে মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই করোনাকালে সুস্থ মনমানসিকতা/ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া যে বেচে থাকাটাই কঠিন।এক্ষেত্রে ইতিবাচক মানুষদের সাথে সখ্যতাই অনেক বড় উপায়। পারিবারিক দৃঢ় বন্ধন,পরিবারের সাথে সময় কাটানো,আত্নীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে অনেকটা ভাল থাকা যায়।আর আমিও তাই করেছি।ব্যস্ততা আর দূরত্বে থেকে যেসব আত্নীয়স্বজনদের সাথে অনেকদিন দেখা-সাক্ষাৎ নেই, এই সময়ে কাছে থেকে দূরের সবার সাথে অন্তত ১বার করে ভিডিওকল এ দেখে কথা বলেছি।   আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সবার সুস্থতা ও সুস্থ সুন্দর পৃথিবীর কামনা তো প্রতিদিনই করছি। কোয়ারেন্টিন এর প্রথম দিকে,মার্চ-এপ্রিল মাসে ঘুমের তো কোন রুটিন ই[…..]

ইতিবাচক মনোভাবের ফলাফল ইতিবাচকই হয়

ইতিমধ্যে আমরা সকলেই কোভিড-১৯ সম্পর্কে অবগত এবং অনেকটা সময় এই মহামারির মধ্যে দিয়ে আমরা পার করেছি এবং এখনো করছি।সত্যি বলতে,এই মহামারির মধ্যে জিবন অতিবাহিত করাটা আসলে খুবই দূর্বিষহ।এর ভেতর থেকে ইতিবাচক মনোভাব রাখাটা যদিও একটা কঠিন কাজ,তবুও আমরা চাইলে আমাদের মনোবলকে শক্ত করার জন্য আমরা ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করতে পারি।বর্তমানে,এই মহামারির সময়ে আমি অনেক ভালো কিছু মুহুর্ত পেয়েছি যেটা আমাকে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে বাধ্য করেছে। ব্যক্তিগতভাবে, নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে আমি ভিষণ পছন্দ করি।কখনোই ভাবিনি এতো লম্বা একটা সময় জুড়ে পরিবারের সাথে থাকতে পারবো। মা-বাবা,ভাই-বোন, দাদা-দাদি তাদের সবার সাথে খুব আনন্দের সাথে দিন অতিবাহিত করতে পেরে সত্যি নিজের কাছে অনেকটা সুখ অনুভব করছি।   অবসরে,দাদ-দাদির কাছ থেকে পুরানো সেকালের গল্প শুনি এতে সেকাল সম্পর্কে আমার অনেকটা ধারণা তৈরি হয়েছে।সেকালের যাতায়াতের ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা আরো কত কি! শুনলে একদিকে গা শিউরে ওঠে আবার খুব ভালোও লাগে।আমি গ্রামে থাকি। দেখা গেছে, গ্রামের অনেক মানুষ কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতন না। আমি[…..]

হার না মানা মনোভাবই আমাকে সবসময় ইতিবাচক রেখেছে

মার্চের শেষ দিকে মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউন জারি করা হয়। এতে একে একে আলো নিভে যায় দেশের অফিস আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি মন্দির-মসজিদেরও। ক্লাস-টিউশনি-কোচিং নিয়ে ইটকংক্রিটের যান্ত্রিক এই শহরে হাঁপিয়ে ওঠাদের একজন হয়ে অপ্রত্যাশিত ছুটি পেয়ে বেশ আনন্দই লাগছিল, তখন বারবার মনে হয়েছিল, যাক করোনার করুণায় কয়েকটা দিন বাড়ি থেকে দিব্যি ঘুরে আসা যাবে। আহা কতদিন যাওয়া হয়না শৈশবের সেই আখড়াঘরে! চিরচেনা সেই পথ-ঘাট আমাকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আর কয়দিন পর তো সব ঠিক হয়েই যাবে। তখন আবার সব হবে। জয় করোনার জয়! প্রথম দফার ছুটি পেরিয়ে দ্বিতীয় দফা গেল, তারপর তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম আরও আরও….তবুও পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক হয় না। দিনকে দিন আরও অবনতি ঘটতে থাকে। চারদিকে মন খারাপের সব খবর বাতাসে বেড়ায়। ছেলে তার বৃদ্ধ বাবাকে করোনার ভয়ে জঙ্গলে ফেলে রাখে, সন্তানরা মৃত মাকে ফেলে দৌড়ে পালায়। হায়রে জীবন! আহা জীবন! বাবা অভিমান করে ওপারে পাড়ি জমানোর পর মা আর ছোট দুই[…..]

3 mindset I adopt during this pandemic to stay positive

We are all facing a noble situation, feeling out of control, stress-filled, sleep-deprived, multiple uncertainties. For the first time in many of our lives, we’re unable to travel wherever we would like and battling the covid-19 pandemic. However, we don’t have control over our life situation right now, but we do have control over our mindset about our lives and what’s happening. We all can either experience anxiety and worry or we can experience peace and calmness, all by how we approach the issues. The choice is ours. With that said, here are 3 mindset I adopt during this pandemic to remain sane and calm. Acceptance I accept my current situation. I accept there’s no point in getting aroused over things I can not control but that’s not mean nothing really fazes me, that’s not mean I’m not upset or concerned. The only difference is I accept to adopting with[…..]

আমি যেভাবে কোভিড ১৯ মহামারীর মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখছি

জীবন তার স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধু-বান্ধব,পড়াশোনা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলাম। হঠাৎ করে এক দমকা ঝড়ো হাওয়া জীবনের গতিকে লন্ডভন্ড করে দিলো।প্রতিদিন রুটিনে ছন্দ পতন ঘটলো। সে ঝড়ো হাওয়া আর কিছু নয় নোভেল করোনা ভাইরাস।যাকে কোভিড -১৯ ও বলা হয়।  ৩১ শে ডিসেম্বর নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীনের কতৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায়, ১১ জানুয়ারি চীনে করোনা ভাইরাসে প্রথম একজনের মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে চীনসহ, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন,ইরান, ফ্রান্স, ভারত,বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩ টির বেশি দেশে বিস্তার লাভ করেছে মহামারি করোনা।বাংলাদেশে সর্বপ্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ ই মার্চ। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের স্থায়িত্ব  ৬ মাস  যাবৎ। গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে মতে, বাংলাদেশে   করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩,৫৩,৮৪৪ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা মোট ৫,০৪৪ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যেন দিন বেড়ে চলছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর মিছিল। টিভি, খবরের কাগজে চোখ বুলালেই দেখা যায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর   মিছিল।প্রথম দিকে[…..]